বাংলা ভাষার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে কোনটির?

Updated: 7 months ago
  • সংস্কৃত
  • অহমিয়া
  • ওড়িয়া
  • মৈথিলি
5.2k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ভাষার মূল উৎস হলো ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের ইন্দো-ইরানীয় শাখার অন্তর্গত ভারতীয় আর্য ভাষা। এই ভারতীয় আর্য ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হলো বৈদিক সংস্কৃত। বাংলা ভাষা সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসেনি, বরং এটি প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ভাষার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। তবে সংস্কৃত ভাষার সাথে বাংলা ভাষার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কারণ:

        
  • শব্দভাণ্ডার: বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারের একটি বিশাল অংশ এসেছে সংস্কৃত থেকে। যেমন, 'তৎসম' শব্দগুলো (যেমন - চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র) সরাসরি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। 'তদ্ভব' শব্দগুলো (যেমন - চাঁদ, সুরজ, কাজ, হাত) সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে।
  •     
  • ব্যাকরণ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ওপর সংস্কৃত ব্যাকরণের গভীর প্রভাব রয়েছে। যেমন, সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ ইত্যাদির ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মাবলী বহুলাংশে অনুসৃত হয়।
  •     
  • লিপি: বাংলা লিপির উৎস ব্রাহ্মী লিপি থেকে, যা সংস্কৃত লেখার জন্যও ব্যবহৃত হত।

অন্যান্য অপশনগুলোর সাথে সম্পর্ক:

        
  • অহমিয়া ও ওড়িয়া: অহমিয়া (আসামি) এবং ওড়িয়া ভাষা বাংলা ভাষার মতোই মাগধী প্রাকৃত থেকে উদ্ভূত সহোদরা ভাষা। এদের সাথে বাংলার অনেক মিল থাকলেও, বাংলা ভাষার মূল ভিত্তি ও শব্দভাণ্ডারের ওপর সংস্কৃতের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।
  •     
  • মৈথিলি: মৈথিলি একটি ভারতীয় আর্য ভাষা যা বিহার ও নেপালে প্রচলিত। এটিও বাংলা ভাষার মতো ইন্দো-আর্য ভাষা বংশের অন্তর্ভুক্ত হলেও, বাংলা ভাষার সাথে এর ঘনিষ্ঠতা অহমিয়া বা ওড়িয়ার মতো নয়, এবং সংস্কৃতের মতো ভিত্তিমূলক সম্পর্ক নেই।

সুতরাং, বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের ধারায় সংস্কৃতের প্রভাব এতটাই গভীর ও ব্যাপক যে, এর সাথে বাংলা ভাষার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অনস্বীকার্য।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

ভাষা

গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে। এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়। বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

ভাষা একদিকে মুখে বলার এবং অন্যদিকে কানে শোনার বিষয়। সভ্যতার অগ্রগতিতে মুখের ভাষা ক্রমে লেখার ও ছাপার, সেইসঙ্গে চোখ দিয়ে পড়ার বিষয়েও পরিণত হয়েছে। এছাড়া দৃষ্টি-শক্তিহীনদের জন্য ভাষাকে উঁচুনিচু করে তৈরি করার ও হাত দিয়ে অনুভব করার ব্রেইল পদ্ধতি, আবার বাক্-শক্তিহীনদের বোঝানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ইশারা ভাষা মানুষ তৈরি করেছে।

জনগোষ্ঠী ভেদে ভাষার বৈশিষ্ট্য আলাদা হয়, ভাষাও আলাদা হয়ে ওঠে। এভাবে পৃথিবীতে কয়েক হাজার ভাষার জন্ম হয়েছে। পৃথিবীর প্রধান ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনা, ইংরেজি, হিন্দি, হিস্পানি, আরবি, বাংলা, পর্তুগিজ, রুশ, জাপানি, জার্মান, কোরিয়ান, ফরাসি, তামিল, তুর্কি, উর্দু, ফারসি প্রভৃতি।

বাংলা ভাষা

বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষায় কথা বলে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ। এর মধ্যে বাংলাদেশে ষোলো কোটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষের বাস। এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে প্রায় তিন কোটি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরো প্রায় এক কোটি বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে। মাতৃভাষী মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলা পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা।

পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা। আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

বাংলা ভাষার রয়েছে কালগত ও স্থানগত স্বাতন্ত্র্য। এক হাজার বছর আগেকার ভাষা, পাঁচশো বছর আগেকার ভাষা, এমনকি উনিশ শতকে প্রচলিত ভাষার সঙ্গে বর্তমান কালের ভাষা আলাদা। আবার ভৌগোলিক এলাকাভেদে বাংলা ভাষার নানা বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। ভাষার এই আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে বলা হয় উপভাষা।

বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা।

Related Question

View All
  • ব্রাহ্মী লিপি
  • কুটিল লিপি
  • জটিল লিপি
  • সংস্কৃত লিপি
281
  • দ্রাবিড়ীয়
  • আফ্রিকীয়
  • পূর্ব-ভারতীয়
  • পশ্চিম-ভারতীয়
267
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই